Quran reading etc Syed Wali ban
যেভাবে সহজে কুরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী হবেন
একটি ধারণা
রমজান মাসে সিয়াম পালনের সাথে পবিত্র কুরআন পাঠের একটি সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ বলেন, সিয়াম হল, মুত্তাকী হওয়ার সাধনা বা পথ। আল্লাহ আরো বলেন, যেহেতু রমজান মাসে কুরআন নাজিল শুরু হয়, সে কারণে এ মাসে সিয়াম পালনের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুত্তাকী হতে আগ্রহীদের সাধনার শুরু অথবা যারা ইতিমধ্যে যিনি সাধনায় আছেন তাদের অবস্থান আরো দৃঢ়করণ -এ মাসে সিয়াম পালনের মধ্য দিয়ে আল্লাহ সহজ করে দেন।
পবিত্র কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ বলেন কুরআন হল, এই মুত্তাকীদের জন্য পথ নির্দেশ (২ঃ২)। সুতরাং আল্লাহর পথ নির্দেশ মত চলা এবং নিজ জীবনে তার পূর্ণ প্রতিফলন ছাড়া মুত্তাকী হওয়ার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে কুরআন ছাড়া আর কি কোন পথ আপনার সামনে থাকতে পারে?
কিভাবে কুরআন পাঠ শুরু করতে পারেন?
মুল কুরআন আরাবী ভাষায়। তবে আল্লাহ কেন কুরআন আরাবী ভাষায় দিয়েছেন সে কারণগুলো পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে দিয়েছেন। সেই সাথে এটাও জানিয়েছেন, যে মুল কুরআন আরবীতে হলেও আল্লাহর কিতাব যার যার মাতৃভাষায় পাঠ বা আবৃত্তি শুনে সে পথ নির্দেশ মত আমল করা যুক্তিসংগত এবং সহজ। (১৪ঃ৪), (৬ঃ ১৫৬), (২৬ঃ ১৯৮, ১৯৯), (৩৬ঃ৫, ৬) (৪১ঃ ৪৪) (৪২ঃ৭)
সুতরাং যার যার মাতৃভাষায় একটি ভাল অনুবাদ সংগ্রহ করুন (অনুবাদ বলতে নিরেট অনুবাদ তাফসির বা ব্যখ্যাসহ নয়) । একটি ভাল না পেলে- দুটি নিয়ে মিলিয়ে দেখুন -আরো সতর্ক হওয়ার জন্য আরো একটি ভিন্ন অনুবাদ পাশে রাখুন। কোন বিষয়ে অর্থ গ্রহনে সিদ্ধান্ত নিতে মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলে অনুবাদ গ্রন্থগুলো পাশাপাশি রেখে সমাধান করতে পারেন। সততার সাথে নিজের চোখ, হৃদয় এবং জ্ঞান ব্যবহার করুন। তারপরও দ্বিধা দূর না হলে আনার জানামতে আপনার পরিবারের কেউ বা বন্ধু-বান্ধব কারো সাথে পরামর্শ করুন। কিন্তু সিদ্ধান্তটি আপনি নিজে নিন, সিদ্ধান্তটি যাই বাকীটা আল্লাহর উপর নির্ভর করুন ( ৮: ৬১, ৬২; ৯: ১২৯) এবং সে অনুয়ায়ী আমল করুন , সেই সাথে সালাতে সৎ পথ প্রাপ্তির জন্য বিনয়ের সাথে আন্তরিক প্রার্থনা চালিয়ে যান।
সুরা ফাতিহা, প্রথম থেকে শুরু করুন। প্রতিদিন আপনার সময় এবং সুযোগ অনুয়ায়ী ধৈর্যের সাথে অল্প অল্প করে পাঠ করুন (১৭ঃ ১০৬; ২০: ১১৪; ৭৬ঃ ২৩, ২৪; ৭৩ঃ ৪, ৫) । তবে একান্ত উপায়হীন না হলে একটি দিনও পাঠ থেকে বিরত হবেন না। যেটুকু পাঠ করলেন সে অংশটুকুতে কি বলা হয়েছে, তা নিয়ে কিছু সময় চলতে ফিরতে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করুন (৪৭: ২৪)।
আপনি হয়ত মুসলিম হিসাবে দাবী করেন এমন কোন পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছেন। পারবারিক ঐতিহ্য এবং রীতি-নীতিতে সেই সাথে মক্তবে বা মাদ্রাসায় কিছু শিক্ষা গ্রহণ করছেন। সে অনুযায়ী আপনার দৃষ্টিতে ধর্মীয় আচার আচরণ করছেন। সেগুলো সেভাবে চালিয়ে যান যতক্ষন পর্যন্ত না আপনি নিজে কুরআন পাঠে তার সাথে কোন অমিল পান বা সাংঘর্ষিক কিছু দেখেন। তবে যখনই এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে সে বিষয়টি আপনার ভাল লাগুক বা না লাগুক, সে সর্ম্পকে আপনার আবেগ যাই হোক বা আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছা -সবই ত্যাগ করুন এবং সততার সাথে কুরআনের আদেশ-উপদেশ, জ্ঞান গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন শুরু করুন। যে জ্ঞান প্রাপ্ত হচ্ছেন আপনার প্রতিটি কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা চলিয়ে যান। এভাবে পাঠ ও নিজেকে নিজে নিজেই সংশোধন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখুন। প্রয়োজনে বছর ধরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করুন। তারপর এ প্রক্রিয়া বার বার চালিয়ে যান। আমৃত্যু।
ইনশাল্লাহ আপনার-আমার কুরআন পাঠ ও পথ সহজ হয়ে যাবে।
"আমি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি খন্ড খন্ডভাবে যাহাতে তুমি ইহা মানুষের নিকট পাঠ করিতে পার ক্রমে ক্রমে এবং আমি আমি উহা ক্রমশ অবতীর্ণ করিয়াছি।" (১৭ঃ১০৬)
"নিশ্চয়ই এই কুরআন হিদায়াত করে সেই পথের দিকে যাহা সুদৃঢ় এবং সৎ কর্মপরায়ণ মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে তাহাদের জন্য রহিয়াছে মহাপুরস্কার।" (১৭ঃ৯)
দ্রষ্টব্য:
১. বাজারে কুরআনের অনুবাদ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হল, মোটামুটি ভাল অনুবাদগুলোর মধ্যে অর্থের তারতম্য ৫ শতাংশের বেশী নয়। অথ্যাৎ ৯৫ শতাংশ আয়াতের অনুবাদ একই অর্থেবাধক।
২. এখানে বিষয় সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে আর্টিকেলের আকার সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য। আগ্রহী পাঠক উল্লেখিত আয়াতসমূহ নিজে কুরআন থেকে দেখে নিলে আরো বিস্তারিত ধারণা করতে পারবেন। তবে পূর্ণ কুরআন পাঠের পূর্বে এ লেখার বক্তব্যের সপক্ষে একই বিষয়ে বহু আয়াত আছে যা এই আর্টিকেলের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব আয়াত সম্পর্কে কেউ জানতে আগ্রহী হলে আমি তার মেসেজ বক্সে পাঠাতে পারি।
Comments
Post a Comment