JJJJJJ
Poor Bukhari EXPOSED‼‼
বুখারি ও তার দোসরদের অসাধ্য সাধন
বোখারী শরীফের ২৭-২৮ পৃষ্ঠায় দেখুন, ‘একটি হাদিসের জন্য মদীনা হতে প্রায় ৬০০ মাইল অতিক্রম করে দামেশকে আবুদ দরদার নিকট যান। উটের ওপর সওয়ার হয়ে দীর্ঘ একমাস পর মদীনা হতে সিরিয়ায় যান। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য একাধারে কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য বসরা হতে শত শত মাইল দূরে মদীনায় এবং মদীনা হতে মিশর যেতেন। এরূপে শত শত, হাজার হাজার সাক্ষ্যদাতার দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে ইমাম বুখারি ৬ লক্ষেরও অধিক হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই করে ১৮০০ জন সাক্ষ্যদাতার মাধ্যমে বর্তমান গ্রন্থটি সংকলন করেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ১০ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করে তা থেকে বেছে ৩০ হাজার হাদিসের একটি গ্রন্থ সংকলন করেন। ইমাম বুখারি ৯০ হাজার লোককে বুখারি শিক্ষা দিয়েছেন। বেঁচেছিলেন ১৩ দিন কম ৬২ বছর। ৫৬ বছর বয়সে নিশাপুরে, পরে স্বদেশ বুখারায় আবস্থান করেন। ১৮ বছর বয়সে হাদিস সংগ্রহ শুরু করেন। প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বে গোসল করে দুই রাকাত সালাত পড়েন এবং প্রতিটি পরিচ্ছদ লিখতেও দুই রাকাত সালাত পড়েন। হাদিস সংগ্রহের জন্য সিরিয়া, মিশর, আলজাযায়ের, বসরা, কুফা, বাগদাদ, হেজায ভ্রমনের পর রাসূলের রওজার পাশে বসে ১৬ বছরে স্বীয় কন্ঠস্থ ৬ লক্ষ হাদিস হতে বেছে প্রায় ৪ হাজার হাদিস একত্রিত করে সহীহ বুখারি গ্রন্থটি সংকলন করেন। এর মূল ২৬০২ বা ২৫১৩টি হাদিস। ১৮ পৃষ্ঠা দেখুন, ‘মোহাদ্দেসগণ প্রত্যেক হাদিসের সংগে তার সাক্ষীগণের তালিকা উল্লেখ করেছেন। যথা- ইমাম বুখারি বলেন, ‘১. মোহাদ্দেস হুমায়দী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ২. তিনি সুফিয়ান নামক মোহাদ্দেসের মুখে শুনেছেন, ৩. তিনি ইয়াহ্ইয়া ইবনে সায়ীদ আনসারীর মুখে শুনেছেন, ৪. তিনি মোহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম তায়মীর নিকট হতে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন যে, ৫. তিনি আলকামা ইবনে আবী ওয়াক্কাসের মুখে নিজ কানে শুনেছেন, ৬. তিনি ওমর ইবনে খাত্তাব-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতে শুনেছেন যে, ৭. আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি।........ (এখান থেকে মুল হাদিস লেখা শুরু / রাসূল বলেছেন,) ........
বিশ্লেষণ-১: ১৮ বছর বয়সে হাদিস সংগ্রহ শুরু, ১৬ বছর যাচাই বাছাই এবং ৬ বছর নিশাপুরে ও স্বদেশ বুখারায় আবস্থান মোট (১৮ + ১৬ + ৬) = ৪০ বছর। তাহলে হাদিস সংগ্রহ করলেন (৬২ - ৪০) = ২২ বছর। ২২ বছরে ৬ লক্ষ হাদিস সংগ্রহের ইতিহাস : প্রায় ৬০০ মাইল বা শত শত মাইল অতিক্রম করে, ১ মাস পরে বা কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করে ১টি হাদিস সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি তিনি প্রতিদিন গড়ে ১টি হাদিস সংগ্রহ করেন তবে তার জন্য সময় প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০) = ১,৬৬৭ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের ১০ লক্ষ হাদিস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন (১০,০০,০০০÷৩৬০) = ২,৭৭৭ বছর। বুখারির প্রতি ২ দিনে ১টি হাদিস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০)২ = ৩,৩৩৩ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের (১০,০০,০০০÷৩৬০) ২ = ৫,৫৫৫ বছর। বুখারি প্রতি ৩ দিনে ১টি হাদিস সংগ্রহ করলে সময় প্রয়োজন (৬,০০,০০০÷৩৬০) ৩ = ৫,০০০ বছর। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের প্রয়োজন (১০,০০,০০০÷৩৬০) ৩ = ৮,৩৩৩ বছর। এখন খাওয়া-দাওয়া, প্রসব-পায়খানা, ওযূ-গোসল, পাঁচ ওয়াক্তের সালাত ও ঘুমের জন্য ১১ ঘণ্টা বাদ দিয়ে বিরামহীনভাবে প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা হাদিস সংগ্রহ করলে বুখারি সাহেবের সময় লাগত {(৬,০০,০০০÷৩৬০) ÷৭৬} = ২২ বছর। প্রতি ১০ মিনিটের মধ্যে ১টি হাদিস সংগ্রহ করলে ৭ পুরুষের নামসহ প্রতিদিন গড়ে ৭৬টি হাদিস মুখস্ত করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব কী?
বিশ্লেষণ-২ : নিশাপুরের রেষারেষিতে চলে যান বুখারায়। সেখানে শাসনকর্তা তাকে বুখারা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন, তিনি বাইকান্ধে চলে যান, পরে সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, পথে খরতঙ্গ গ্রামে অবস্থান করেন। ভীতির মধ্যে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ৬ বছরে ৯০ হাজার মানুষকে বুখারি শিক্ষার ইতিহাস : প্রাইভেট পড়ানোর মত যদি ৫০ জনের একটি ব্যাচ হয় তাহলে মোট ব্যাচ হবে (৯০,০০০÷৫০) = ১৮০০টি। প্রতিদিন প্রতি ব্যাচে ২০০০ (দুই হাজার) হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয় তবে ২৫০০ টি হাদিস শিক্ষার সময় লাগবে ১.২৫ দিন অর্থাৎ, {(১৮০০১.২৫)÷৩৬০} = ৬ বছর। মানবিক প্রয়োজনীয় কাজ করার পর বিরামহীনভাবে ১ দিনে ৫০ ব্যক্তিকে ২০০০ (দুই হাজার) হাদিস শিক্ষা দেওয়াও অসম্ভব। ধরে নিলাম, আপনার সময়ের বড় অভাব। বুখারি সাহেব যদি ১ দিনের একটু বেশি সময়ে ৫০ জনকে, এভাবে ৯০,০০০ মানুষকে বুখারি শরিফ শিক্ষা দিতে পারেন তবে আপনার জীবনে দুই দিনে কেন আপনার প্রাণ প্রিয় বুখারি শরীফ এক বারও পড়েন নি?
বিশ্লেষণ-৩ : ২৩ বছরে কুরআন নাজিল হয়। কুরআনের ব্যাখ্যা হাদিস হলে প্রতিটি আয়াতের জন্য একটি করে হাদিস। তাহলে মোট হাদিসের সংখ্যা হতো ৬,২৩৬ টি। প্রতিদিন গড়ে নাজিল হয় (২৩৩৬০)÷৬,২৩৬) = ১.২৮ আয়াত। এ হিসাবে বুখারির হাদিস সংগ্রহ করতে সময় লাগত{(৬,০০,০০০÷১.২৮)÷৩৬০} = ১,৩০৪ বছর। গড়ে প্রতিদিন ৩টি করে হাদিস সংগ্রহ করলে বুখারির সময় প্রয়োজন {(৬,০০,০০০÷৩)÷৩৬০} = ৫৫৫ বছর। সুতরাং ২২ বছরে ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্ত করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব কী?
বিশ্লেষণ-৪ : ১৬ বছরে স্বীয় কন্ঠস্থ ৬ লক্ষ হাদিস যাচাই এর ইতিহাস : ৬ লক্ষ হাদিস থেকে ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার বাদ দেওয়ার জন্য ১টি হাদিস যাচাই বাছাই করতে যদি ১০ মিনিট সময় লাগে এবং বিরামহীনভাবে ১৭১/২ ঘণ্টা সময় লাগে তবে প্রতি দিনে যাচাই বাছাই হবে {(১৭১/২৬০)÷১০} = ১০৫টি হাদিস। সুতরাং ১০মিনিটে ১টি হাদিস যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় তবে সময় প্রয়োজন {(৬,০০,০০০÷১০৫) দিন ÷৩৬০}= ১৬ বছর। প্রতিটি হাদিস ২০ মিনিটে যাচাই বাছাই হলে প্রয়োজন ৩২ বছর এবং ৩০মিনিটে হলে প্রয়োজন ৪৮ বছর। ঘুম, প্রসব-পায়খানা, ৫ ওয়াক্ত সালাত, গোসল ও খাওয়ার সময় বাদে প্রতিদিন ১৭১/২ ঘন্টা সময় এবং ১০মিনিটের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে গোসল করে ২ রাকাত সালাত পড়ে ৭ পুরুষের নামসহ ১টি হাদিস লেখা কোন মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব কী?
বিশ্লেষণ-৫ : ১,৮০০ জন সাক্ষ্যদাতার সংগে সাক্ষাতের ইতিহাস : প্রতি ঘণ্টায় ২০ মাইল বেগে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা গেলে ৬০০ মাইল যেতে সময় লাগবে {৬০০÷(২০১০)} = ৬ দিন। উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দীর্ঘ একমাস পর মদীনা হতে সিরিয়ায় পৌঁছেছিলেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য একাধারে কয়েক দিন ও কয়েক রাত ভ্রমন করেছেন। একটি হাদিস সংগ্রহের জন্য বসরা হতে শত শত মাইল দূরে মদীনায় এবং মদীনা হতে মিশর যেতেন। সিরিয়া, মিশর, আলজাযায়ের, বসরা, কুফা, বাগদাদ, হেজায যেতে গড়ে প্রতি ৫দিন পরে একজনের সাথে সাক্ষাত করতে প্রয়োজন (১,৮০০৫) = ৯,০০০ দিন। এ হিসেবে একজনের নিকট থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন একদিনে (৬,০০,০০০÷৯,০০০) = ৬৭টি। ১টি হাদিস সংগ্রহ করতে ১৫ মিনিট সময় লাগলে প্রতিদিন সময় প্রয়োজন {(৬৭১৫)÷৬০} = ১৭ ঘণ্টা। ১৭ ঘন্টা বিরামহীম এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে ৭ পুরুষের নামসহ ১টি হাদিস মুখস্ত করা একটি মানুষের পক্ষে সম্ভব কী⁉⁉
☀
✈✈বালাদুল আমিন (শান্তির নগরী) কোথায়?
কেউ জানাবেন কি যেখানে আমাদের প্রিয় ও আল্লাহর নবি মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেছিলেন ?
কুরআনে দেখুন-
১. আমি কসম করছি এই বালাদের (নগরের), আর তুমি এই বালাদের (নগরের) অধিবাসী (সূরা-৯০, বালাদ, আয়াতঃ ১-২)।
২. সাক্ষী ‘তীন’ ও ‘যায়তুন’-এর, এবং ‘সিনাই পর্বতের এবং এই বালাদিল আমিনের (নিরাপদ নগরীর); সূরা-৯৫, তীন, আয়াতঃ ১-৩।
৩. ‘আমি সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যা জন্মায় সিনাই পর্বতে, এতে উৎপন্ন হয় তৈল এবং আহারকারীদের জন্য ব্যঞ্জন (সূরা-২৩, মু‘মিনূন, আয়াত-২০)
৪. সাক্ষী তূর পর্বতের, সাক্ষী কিতাবের, যা লিখিত আছে, উন্মুক্ত পত্রে, সাক্ষী বায়তুল মামুরের, সমুন্নত আকাশের এবং সাক্ষী উদ্বেলিত সমুদ্রের- তোমার রবের শাস্তি তো অবশ্যম্ভাবী (সূরা-৫২, তূর, আয়াতঃ ১-৭)।
৫. (ক) ‘পবিত্র ও মহিমময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করায়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসা (দূরবর্তী) স্থান পর্যন্ত, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখাবার জন্য (সূরা-১৭, বনী ইসরাঈল, আয়াত-১)।
(খ) অতঃপর সে যখন তার নিকট আসল, তখন ঘোষিত হলো ‘ধন্য, যারা আছে আলোর মধ্যে এবং যারা আছে এর চতুষ্পার্শ্বে (সূরা-২৭, নামল, আয়াত-৮)।
(গ) যখন মূসা আগুনের নিকট পৌঁছিল তখন উপত্যকার দক্ষিণ পার্শ্বে পবিত্র ভূমিস্থিত এক বৃক্ষের দিক হতে তাকে আহ্ববান করে বলা হলো, ‘হে মূসা, আমিই আল্লাহ, জগতসমূহের রব (সূরা-২৮; কাসাস, আয়াত-৩০)।
(ঘ) অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসল তখন আহবান করে বলা হলো, ‘হে মূসা! আমিই তোমার রব, অতএব তোমার পাদুকা খুলে ফেল, কারণ তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ (সূরা-২০, তা-হা, আয়াতঃ ১১-১২; ৭:১৪৩-১৪৫)।
(ঙ) মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না। ... ... তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না তাদের নিকট আমার আয়াত আবৃ্ত্তি করার জন্য (সূরা-২৮, কাসাস, আয়াতঃ ৪৪-৪৫)।
৬. (ক) ইবরাহীম ইয়াহুদীও ছিল না, খৃষ্টানও ছিল না; সে ছিল একনিষ্ঠ মুসলিম (সূরা-৩, আলে-ইমরান, আয়াত-৬৭)। [ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও মুসলিম সকলে ইবরাহীমের অনুসারি বলে দাবী করে।]
(খ) ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল গৃহের প্রাচীর তুলেছিলেন (সূরা-২, বাকারা, আয়াত-১২৭, ১২৫; ২২:২৬)।
(গ) যে গৃহে হজ্জ (বিধান সভা) করবে (সূরা-২২, হাজ্জ, আয়াতঃ ২৬-২৭)।
(ঘ) তাওয়াফ করবে (ঘুরে ঘুরে দেখবে) বায়তুল আতিকের (প্রাচীন গৃহের) এবং কুরবানীর স্থান বায়তুল আতিকের (প্রাচীন গৃহের) নিকট (সূরা-২২, হাজ্জ, আয়াতঃ ২৯, ৩৩)।
✈✈✨ (ঙ) নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায়, তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। ... ... মানুষের (ইহুদি, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিমসহ সকল দীনের মানুষের) মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য (সূরা-৩, আলে-ইমরান, আয়াতঃ ৯৬-৯৭)।
(চ) আমি বললাম, ‘হে অগ্নি! তুমি ইবরহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ ... ...আমি তাকে (ইবরাহীমকে) ও লূতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই দেশে যেথায় আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য (সূরা-২১, আম্বিয়া, আয়াত-৬৯, ... ৭১)।
(ছ) ‘কা’বাগৃহ, ... ...আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করেছেন (সূরা-৫, মায়িদা, আয়াত-৯৭।
৭. ‘তারা কি দেখে না আমি ‘হারামকে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চতুষ্পার্শ্বে যেসব মানুষ আছে, তাদের উপর হামলা করা হয়, তবে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? (সূরা-২৯, ‘আনকাবূত, আয়াত-৬৭; ২:২১৭; ৮:৩৪; ৯:২৮)।
বি:দ্র: (ক) ইবরাহীম হেজাজের ( সৌদি আরবের) অধিবাসী ছিলেন না।
(খ) বসবাস করেছেন ও মারা গেছেন সিরিয়ায় (শ্যামে)।
(গ) হেজাজ (সৌদি আরব) থেকে সিরিয়ার (শ্যামের) দূরুত্ব প্রায় ২০০০ কিলোমিটার।
(ঘ) ফিলিস্তিন ও মিশরের মধ্যে দূরুত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার।
(ঙ) বর্তমান ইসরাইল (ইসরাইল, জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়া)।
(চ) পৃথিবীর প্রাচীনতম গৃহ, প্রত্নতাত্ত্বিক বিবেচনায় তার নিদর্শন থাকতে হবে।
বালাদুল আমিনের বর্ণনা-
১. নগরীতে তীন (ডুমুর) ও যায়তুন গাছ আছে।
২. সিনাই পর্বতের নিকটে যেখানে একমাত্র যায়তুন বৃক্ষ জন্মে।
৩. যা বায়তুল মামুরকে ঘিরে আছে।
৪. উদ্বেলিত সমুদ্রের নিকটে।
৫. নগরীর নাম বাক্কা।
[আল্লাহর কালামের কোন পরিবর্তন নাই (৬:৩৪, ১১৫; ১০:৬৪; ১৮:২৭) অর্থাৎ বাক্কা (৩:৯৬) কখনই মক্কা হতে পারে না]।
৬. সেখানে একটি বৃক্ষ আছে।
৭. বায়তুল আতিক (প্রাচীন গৃহ) ঐ শহরে অবস্থিত।
৮. যেখানে ইবরাহীমকে আগুনে পুড়াতে পারে নি। আল্লাহ ও মূসা নরির মধ্যে কথপোকথন হয়েছিল।
৭. গুলি করলে মানুষ মরে, ছাদ ভেঙে মানুষ মরতে পারে, এমন স্থান কখনই নিরাপদ হতে পারে না।
মিথ্যা বললে- ‘তোমার রবের শাস্তি তো অবশ্যম্ভাবী (সূরা-৫২, তূর, আয়াত-৭)।
☀
wrtr..Amirul Islam
সালাতুত তারাবিহ তো দূরের কথা কুরআনে সালাতুজ যোহর, সালাতুল আসর ও সালাতুল মাগরিব নামে কোন সালাত নাই। যারা ১. তারাবিহ, ২. যোহর, ৩. আসর ও ৪. মাগরিব নামের সালাত পড়েন তারা পথভ্রষ্ট। পথভ্রষ্টদের সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন-
১. ‘পথভ্রষ্টদের জন্য উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম;....পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অধোমুখী করে (২৬:৯১-৯৪); সূরা-২৬, শু‘আরা, আয়াত: ৯১-৯৪।
২. ‘আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে তদ্দ্বারা দেখে না এবং তাদের কর্ণ আছে তদ্দ্বারা শ্রবণ করে না; এরা পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত (৭:১৭৯); সূরা-৭, আরাফ, আয়াত-১৭৯।
আল্লাহ আরও বলেন-
১. ‘আল্লাহর কোন শরিক নাই (৬:১৬৩; ১৭:১১১); সূরা-৬, আন‘আম, আয়াত-১৬৩।
২. ‘বিধান দিবার অধিকার কেবল আল্লাহরই (১২:৪০); সূরা-১২, ইউসূফ, আয়াত-৪০।
৩. ‘আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি (রাসূল) তোমাদের জন্য কিছু করতে পারি না। বিধান আল্লাহরই (১২:৬৭); সূরা-১২, ইউসূফ, আয়াত-৬৭।
৪. বল, ‘নিজ হতে এ (কুরআন) বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি (১০:১৫); সূরা-১০, ইউনুস, আয়াত-১৫।
৫. বল, ‘আমি কোন নূতন রাসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের কি করা হবে; আমি আমার প্রতি যা ওহী করা হয় কেবল তারই অনুসরণ করি (৪৬:৯); সূরা-৪৬, আহকাফ, আয়াত-৯।
৬. তুমি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে; আর তারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে (৬:১১৬); সূরা-৬, আন‘আম, আয়াত-১১৬।
রাসূল ওহীর অনুসরণ করেছেন। এখন যারা ওহীর অনুসরণ করবেন তারাই রাসূলের অনুসারি নয় কি?
‘যারা যাকাত দেয় না তারা কাফির ও মুশরিক (৪১:৬-৭)। কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থ হয় (১৩:১৪; ৪০:৫০)।
কুরআনে ১. সালাতুত তারাবিহ, ২. সালাতুজ যোহর, ৩. সালাতুল আসর ও ৪. সালাতুল মাগরিব নামে কোন সালাত থাকলে সরাসরি কুরআন থেকে আরবি-বাংলা আয়াতসহ কপি পেষ্ট করুন।
ফেবুর পাঠকরা সঠিক বিষয়টি জানতে পারবে।
‘বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি তোমরা তা ধরে থাকো, তবে তোমরা আমার পর কখনও বিপথগামী হবে না- তা হলো আল্লাহর কিতাব (মুসলিম);-মেশকাত-৫/২৪৪০। [এ হাদিস ছাড়া প্রায় সব কুরআন বিরোধী হাদিসই মুসলিমরা বিশ্বাস করে ও মানে।]
৯. ওমরের হুকুমের বিরুদ্ধে আল্লাহর আয়াত!
কুরআনে দেখুন, ‘হে মু’মিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক;-৬১:২-৩। [ওমর নিজে তারাবি পড়েননি কিন্তু অন্যকে পড়তে বলেছিলেন। রাসূলের নামে সুন্নত সালাতও বর্জনীয়। কারণ আল্লাহ্ রাসূলকে বলেন,] ‘বল, আমার সালাত, আমার ‘ইবাদত, আমার জীবন ও আমর মরণ জগতসমূহের রব আল্লাহর উদ্দেশ্যে। ‘তাঁর কোন শরিক নেই;-৬:১৬২। [ওমর প্রবর্তিত তারাবি রাসূলের সূন্নত নাম দিয়ে পড়লে সওয়াব পাওয়া যাবে কী?
যারা আল্লাহর আয়াত (কুরআন) মানেন না তাদেরকে আল্লাহ কি বলেছেন জানেন কি?
যারা আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করে / যারা আল্লাহর আয়াত মানে না-
১. তারা নবীর শত্রু, শয়তান (৬:১১২)!
২. তারা তাগূত- জাহান্নামী (২:২৫৭)!
৩. তাদের অবস্থা হাঁপানো কুকুরের মত (৭:১৭৬)!
৪. তারা পুস্তকবহনকারী গাধার মত (৬২:৫)।
৫. তারা পশুর মত, বা তার থেকেও বিভ্রান্ত (৭:১৭৯)!
৬. তারা নিকৃষ্ট জীব (৮:২২)!
৭.তারা বধির ও মুক, অন্ধকারে রয়েছে (৬:৩৯)!
৮. তারা কাফির (৫:৪৪)!
৯. তারা যালিম (৫:৪৫)!
১০. তারা ফাসিক (৫:৪৭)!
১১. আল্লাহর আয়াত আসার পর যারা আল্লাহর আয়াত ভুলে থাকবে
তাদেরকে হাসরের মাঠে অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে (২০:১২৪-১২৭)!
যারা কুরআন বর্জন করে বুখারি-মুসলিমদের কথামত সালাতুত তারাবি, সালাতুজ যোহর, সালাতুল আসর ও সালাতুল মাগরিব নামে সালাত পড়েন
.
হে মু‘মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও (৯:১১৯); সূরা-৯, তাওবা, আয়াত-১১৯।
সত্যবাদী কারা?
১. পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোন পূণ্য নেই, কিন্তু পূণ্য আছে কেউ আল্লাহ্, আখিরাত, মালাইকা, সমস্ত কিতাব এবং নবিগণে ঈমান আনলে এবং আল্লাহ্-প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, পথিক, প্রার্থীদের এবং দাস-মুক্তির জন্য অর্থ দান করলে, সালাতে (প্রার্থনাতে) দাঁড়ালে ও যাকাত দিলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থ-সঙ্কটে, দুঃখ-ক্লেশে ও সংগ্রাম-সঙ্কটে ধৈর্য ধারণ করলে। এরাই তারা যারা সত্যবাদী এবং এরাই (সত্যবাদীরাই) মুত্তাকী (২:১৭৭); সূরা-২, বাকারা, আয়াত-১৭৭।
মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্তঃ তাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সরার নহর, আছে পরিধোধিত মধুর নহর এবং সেথায় তাদের জন্য থাকবে বিবিধ ফলমুল আর তাদের রবের পক্ষ হতে ক্ষমা (৪৭:১৫); সূরা-৪৭, মুহাম্মদ, আয়াত-১৫।
বর্তমান বিশ্বে দীন ইসলামের প্রচলিত ধারক, বাহক ও প্রচারকদের মধ্যে আল্লাহ নির্দেশিত সালাত ও যাকাতের আমল আছে কি?
২.তারাই মু‘মিন যারা আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, পরে সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারাই সত্যবাদী (৪৯:১৫); সূরা-৪৯, হুজুরাত, আয়াত-১৫।
৩. ‘মু‘মিন নর ও নারী একে অপরের ওলী (বন্ধু) তারা সৎকার্যের নির্দেশ দেয়, অসৎকার্যে নিষেধ করে, ‘সালাতে দাঁড়ায়, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে (৯:৭১); আল্লাহ মু‘মিন নর ও মু‘মিন নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের--- যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত যেথায় তারা স্থায়ী হবে এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বসস্থানের। আল্লাহর সন্তুষ্টিই শ্রেষ্ঠ এবং তা-ই মহাসাফল্য (৯:৭২); সূরা-৯, তাওবা, আয়াতঃ ৭১-৭২।
সালাত দুই ওয়াক্ত-- ফজর ও ইশা (১১:১১৪; ১৭:৭৮; ২৪:৫৮); মধ্যম স্বরে (১৭:১১০) প্রার্থনা (২:১৫৩ ৫:৮৩-৮৫; ৩:১৪৭-১৪৮, ১৯১-১৯৫; ২৫:৭৪-৭৬; ৪৬:১৩-১৬ ... )।
‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, রাগসংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আল্লাহ মুহসেনিনদের (সৎকর্মপরায়ণদের) ভালোবাসেন (৩:১৩৪); সূরা-৩, আলে-‘ইমরান, আয়াত-১৩৪।
মুহসেনিন কারা? – এগুলো জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত, পথ-নির্দেশ ও দয়াস্বরূপ মুহসেনদের (সৎকর্মপরায়ণদের) জন্য; যারা সালাতে দাঁড়ায় ও যাকাত দেয়, তারাই আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী (৩১:২-৪); সূরা- ৩১, লুকমান, আয়াতঃ ২-৪।
সকল মুসলিমের (২৭:৮১; ৩০:৫৩) জন্যই যাকাত বাধ্যতামূলক (২২:৭৮) -- নির্দিষ্ট হক (৫৮:১৩; ৭০:২৪) উপার্জন থেকে (২:২৬৭) অর্জিত সম্পদ যা গণিমত নামে ৫ ভাগের ১ ভাগ (৮:৪১), খরচ বাদে নিয়মিত প্রতিমাসেই ফসল কর্তন, ব্যবসার লাভ, মজুরি বা বেতন প্রাপ্তির দিনে (৬:১৪১) ইমামের নিকট জমা দিতে হবে(১৭:৭১; ২১:৭৩) যা পরার্শের মাধ্যমে (৩:১৫৯; ৪২:৩৮) মাথা পিছু বন্টন (৫৯:৭)। ফলে সচ্ছল কম পাবে এবং দরিদ্র বেশি পাবে। অর্থনৈতিক সাম্যের সৃষ্টি হবে।
মুসলিম মাল (সম্পদ) দিলে যাকাত (পবিত্র) হয় (৯২:১৮; ৩০:৩৯); যারা যাকাত (মাল) দেয় না তারা আখিরাত বিশ্বাস করে না অর্থাৎ তারা মুশরিক ও কাফির (৪১:৬-৭)। যারা আখিরাত বিশ্বাস করে না (কাফির), আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন না (১৬:১০৭-১০৯)। প্রচ্ছন্ন পর্দা থাকে ফলে কুরআন বুঝতে পারে না (১৭:৪৫-৪৬)। কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থ হয় (১৩:১৪; ৪০:৫০)। [আপনার ঘরের কুরআনের সাথে সূরা ও আয়াত নং মিলিয়ে দেখুন।]
বর্তমান বিশ্বে দীন ইসলামের প্রচলিত ধারক, বাহক ও প্রচারকদের মধ্যে আল্লাহ নির্দেশিত সালাত ও যাকাতের আমল আছে কি?
.
৪০. কুরআনে ‘পরিচ্ছদ স্থান-কাল-পাত্র ভেদে, বুখারি-মুসলিমে ‘টাখনার নীচে গেলে জাহান্নাম!
কুরআনে দেখুন, ‘হে বনী আদম! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশ-ভুষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং তাকওয়ার পরিচ্ছদ, এ সর্বোৎকৃষ্ট। এ আল্লাহর আয়াতসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে (৭:২৬)। ‘তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের; তা তোমাদেরকে তাপ হতে রক্ষা করে (১৬:৮১)। [মানুষ পোষাক পরিধান করে তিনটি কারণে- ১. লজ্জাস্থান ঢাকা, ২. সৌন্দর্য বর্ধন ও ৩. তাপ (ঠান্ডা ও গরম) হতে রক্ষার জন্য। কুরআন অনুসারে পরিচ্ছদ পরবে মানুষ স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে। আল্লাহ কি পরিচ্ছদের কারণে মানুষকে জাহান্নামে দিবেন?]
..
বুখারি- মুসলিমে দেখুন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশত পরিধেয় কাপড় টাখনার নীচে ঝুলাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না (মেশকাত-৮/৪১২২, ৪১২৩, ৪১৭৪)। ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ কোন কথা বলবেন না, রহমতের দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য ভীষণ কষ্টদায়ক আযাব নির্ধারিত আছে- সেই ব্যক্তি হলো যে ব্যক্তির পরিধেয় বস্ত্র পায়ের গিঁটের নীচে পৌঁছায় (তিরমিযি)-মেশকাত-৬/২৬৭৩। ‘এক ব্যক্তি অহংকারবশত তার ইয়ার হেঁড়ায়ে যেতেছিল, এমতাবস্থায় তাকে মাটিতে ধসায়ে দেওয়া হলো। ফলে সে কিয়ামত পর্যন্ত যমীনের ভিতরে তলায়ে যেতে থাকবে (মেশকাত-৮/৪১২৪)। ‘টাখনার নীচে ইয়ারের যে অংশ থাকবে তা জাহান্নামে (মেশকাত-৮/৪১২৫)। ‘মু’মিনের ইয়ার পায়ের অর্ধনলা পর্যন্ত থাকা চাই, ... টাখনার নীচে যা যাবে তা জাহান্নামে (আবু দাঊদ ও ইবনে মাযাহ);-মেশকাত-৮/৪১৩৮। [হাদিস সত্য হলে ইমাম সাহেদের স্ত্রীদের কি হবে? অধিকাংশ নারী পায়ে টাখনার নীচে ঝুলায়ে কাপড় পরে তাদের কি হবে?]
.
২৮. কুরআনে ‘সালামুন আলাইকুম, বুখারি-মুসলিমে ‘আসছামু আলাইকুম... কুরআনে দেখুন, ‘যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে তারা যখন তোমার নিকট আসে তখন তুমি বল, ‘সালামুন আলাইকুম [তোমাদের প্রতি শান্তি (বহুবচন)];-৬:৫৪। [ইব্রাহীম তার বাবাকে বলেছিলেন,] ‘সালামুন আলাইকা [তোমার প্রতি শান্তি (এক বচন)];-১৯:৪৭। ‘অতঃপর জান্নাতে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তকে বলা হবে ‘সালামুল্লাকা [তোমার প্রতি শান্তি (এক বচন)];-৫৬:৯১। [অধিকাংশ মাদ্রাসায় শিক্ষিতদের আরবি ব্যাকরণের ‘বচন জ্ঞান ও লিঙ্গ জ্ঞান’ আছে কি? পুং লিঙ্গে এক বচনে ‘কা’ (তোমাকে), দুই বচনে ‘কুমা’ [তোমাদের (দুইজন)কে] ও বহু বচনে ‘কুম’ [তোমাদের সকল)কে]। স্ত্রী লিঙ্গে এক বচনে ‘কি’ (তোমাকে), দুই বচনে ‘কুমা’ [তোমাদের (দুইজন)কে] ও বহু বচনে ‘কুন্না’ [তোমাদের (সকল)কে। সালাম দিবার ক্ষেত্রে তারা একজন, দুইজন, তিনজন বা তিনের অধিক পুরুষ এবং স্ত্রীলোক সকলকে বচন ও লিঙ্গ ভেদ না দেখিয়ে বলেন, ‘আস্ছালামু আলাইকুম। আরবি ব্যাকরণের অনুসরণ যখন করা হয় না, তখন ব্যাকরণ নিয়ে বাড়াবাড়ি কেন? লক্ষ লক্ষ মসজিদের ইমাম যখন আরবি ব্যাকরণ অনুসারে ‘ওলাদ দ্বোয়াল্লিন’ উচ্চারণ সঠিকভাবে করেন না, তখন সারাধণ পাঠকদের আরবি উচ্চারণ নিয়ে এতো অবজ্ঞা কেন?] তারা (জান্নাতবাসিগণ) ও তাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেথায় থাকবে তাদের জন্য ফলমূল এবং তাদের জন্য বাঞ্ছিত সমস্ত কিছু, সালামুন, কাঊলাম্ র্মি রাব্বির রাহীম (শান্তি, পরম দয়ালূ রবের পক্ষ হতে সম্বাষণ);-৩৬:৫৬-৫৮। [কুরআনে দেখুন- ‘সালামুন আলাইকুম (৭:৪৬; ১৩:২৪; ১৬:৩২; ৩৯:৭৩) ও ‘সালামুন (১৪:২৩; ৩৩:৪৪; ৩৬:৫৮; ৪৩:৮৯; ৫০:৩৪; ৫১:২৫; ৫৬:২৬, ৯১; ৯৭:৫ আয়াত)।]
..
প্রচলিত হাদিসে দেখুন, ‘এক ব্যক্তি নবীর খেদমতে এসে বললো, ‘আস্সালামু আলাইকুম। ... আরেক ব্যক্তি এসে বললো, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ্। আরেক ব্যক্তি এসে বললো, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ্ ওয়া বারাকাতুহ্ (তিরমিযি ও আবূ দাঊদ);-মেশকাত-৯/৪৪৩৯। ‘আরও এক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্ িওয়া বারাকাতুহু, ওয়া মাগফিরাতুহু (আবূ দাঊদ);-মেশকাত-৯/৪৪৪০। ‘রাসূলের কাছে কেউ আসলে তিনি তাকে বলতেন, চলে যাও এবং এসে বল, ‘আস্সালামু আলাইকুম’ (তিরমিযি ও আবূ দাঊদ);-মেশকাত-৯/৪৪৬৬। [রাসূলকে আল্লাহ সালাম দিতে বলেছেন (৬:৫৪)। প্রচলিত হাদিসে রাসূল সালাম প্রত্যাশী কেন?]
.
কুরআনে ‘জুমু‘আর দিনে মু’মিনদেরকে সালাতের আহ্বান, বুখারি-মুসলিমে ‘লক্ষ্যহীনভাবে
কুরআনে দেখুন, ‘হে মু’মিনগণ! .....আল্লাহ স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, এ-ই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর (৬২:৯)। [ফজর এবং ইশার (প্রচলিত মাগরিবের) সময় নির্দিষ্ট। মু’মিনদেরকে প্রতিদিন এ-ই দুই সময় সালাত পড়তে হয়। কর্মব্য¯Í মানুষের সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে মধ্যবর্তী সালাত অর্থাৎ সালাওয়াতি ওস্তার (২:২৩৮) কথা মনে নাও থাকতে পারে, তাই মু’মিনদেরকে সালাতের জন্য মুয়াজ্জিনের (১২:৭০) আহŸানের [(আযান (৯:৩) এর] নির্দেশ। মু’মিনদেরকে আরো বেশি শুনানোর জন্য আমরা উচ্চ স্বরে বলতে পরি (৭১:৯)-
১. আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান;-২:২৮৪ (দুইবার)।
২. আল্লাহ্ আমাদের রব (৪১:৩০) (দুইবার)।
৩.‘হে মু’মিনগণ! .....আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, এ-ই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর;-৬২:৯ (দুইবার)।
৪. আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান;-৩:২৯ (দুইবার)।
৫. আল্লাহ্ আমাদের রব (৪৬:১৩) (দুইবার)।
৬. আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই (৩৭:৩৫) (একবার)। [উপরোক্ত আযানের (৯:৩) প্রত্যেকটি বাক্য কুরআনের যা শিরক মুক্ত এবং এ আযানে জান্নাত লাভের (৪৬:১৩) ঘোষণাও রয়েছে।]
বুখারি-মুসলিমে দেখুন, ‘একজন মুয়াজ্জিন ঘুমন্ত ওমরকে জাগানোর জন্য ফজরের সময় বললেন, ‘সালাত ঘুম হতে উত্তম’। আর ওমর একে ফজরের আযানেই সংযোগ করতে বললেন (মেশকাত-২/৬০১)। ‘মদিনায় আযানের জন্য আলোচনা হয়, ‘কেউ বললেন, নাসারাদের ন্যায় ঘণ্টা আর কেউ বললেন, ইহুদীদের মত শিঙ্গা বানাতে। রাসূল তখন বললেন, ‘হে বেলাল! ওঠ এবং সালাতের জন্য আহ্বান কর (মেশকাত-২/৫৯৮)। ‘রাসূল ফজরের সালাতের জন্য যার নিকট দিয়ে যেতেন তার জন্য আহ্বান করতেন অথবা, নিজ পা দ্বারা তাকে নাড়া দিতেন (আবূ দাউদ))-মেশকাত-২/৬০০। ‘আগুন ও শিঙ্গার কথা উল্লেখ করলে রাসূল বেলালকে আযানের নির্দেশ দেন (মেশকাত-২/৫৯০)। ‘রাসূল আবদুল্লাহ্কে সালাতে একত্রিত হওয়ার জন্য ঘণ্টা বানানোর নির্দেশ দিলেন, ‘আব্দুল্লাহ্কে স্বপ্নে এক ব্যক্তি প্রচলিত আযান শিক্ষা দেন।’ খলিফা ওমরও অনুরূপ স্বপ্ন দেখেন (আবু দাঊদ, দারেমী ও ইবনু মাযাহ);-মেশকাত-২/৫৯৯। প্রচলিত আযান-
১. আল্লাহ্ বৃহত্তর (আকবার অর্থ বৃহত্তর- ৬:৭৮; ১৭:২১; ৩৯:২৬; ৪০:৫৭); ৪ বার।
২. আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; ২ বার।
৩. আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ২ বার।
৪. আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; ২ বার।
৫. আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; ২ বার।
৬. প্রার্থনার জন্য আসুন; ২ বার।
৭. সৌভাগ্যের জন্য আসুন; ২ বার।
৮. (ফজরের সালাতে) প্রার্থনা ঘুম হতে উত্তম; ২ বার।
৯. আল্লাহ্ বৃহত্তর; ২ বার।
১০. আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; ১ বার (মুসলিম);-মেশকাত-২/৫৯১। উক্ত হাদিসে ‘সালাত ঘুম হতে উত্তম’ অংশটি নেই। (আবূ দাঊদ);-মেশকাত-২/৫৯৪ নং হাদিসে ‘সালাত (প্রার্থনা) ঘুম হতে উত্তম’ অংশটি আছে। ‘রাসূল আযান শিক্ষা দিয়েছিলেন ১৯ বাক্যে এবং এক্কামত ১৭ বাক্যে (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসাঈ, দারেমী ও ইবনু মাযাহ);- মেশকাত-২/৫৯৩। ‘রাসূলের সময় আযান দুই দুই বার এবং এক্কামত এক এক বার ছিুল। কিন্তু ‘ক্বাদ্ক্বামাতিচ্ছাত’-কে মুয়াজ্জিন দু’বার বলতেন (আবু দাঊদ, নাসাঈ ও দারেমী);-মেশকাত-২/৫৯২। [মেশকাত-২/৫৯১, ৫৯৩ ও ৫৯৪ নং (মুসলিম সহ মোট ৭টি) হাদিসে আযানের বাক্য ১৯টি। আল্লাহ্ বলেন, ‘যারা কুফরি করে তারা বাতিলের (মিথ্যার) অনুসরণ করে এবং যারা ঈমান আনে তারা তাদের রব প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে (৪৭:৩)। বর্তমান মুসলিম বিশ্বে আযান ১৫ বাক্যে, ফজরের আযান ১৭ বাক্যে অর্থাৎ কোন আযানই ১৯ বাক্যে হচ্ছে না। আর ১৫টি বাক্যের মধ্যে ১৪টিই মানব রচিত। শ্রদ্ধেয় ইমামগণ! আমরা কি কুরআনের আযান বাদ দিয়ে হাদিস বিকৃত আযানের অনুসরণ করব?]
.
কুরআনে ‘সাবতের দিনই জুমু‘আ, বুখারি-মুসলিমে, ‘শুক্রবার!
কুরআনে দেখুন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা সাব্ত সম্পর্কে সীমালংঘন করেছিল তাদের তোমরা নিশ্চিতভাবে জান। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হও। আমি এ তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তিগণের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ করেছি (২:৬৫-৬৬)। ‘তাদের (মূসার সম্প্রদায়কে) বলেছিলাম, সাবতের সীমালংঘন করো না এবং তাদের নিকট হতে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম (৪:১৫৪; ৭:১৬৩)। ‘বল, ... ... যাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শুকুর করেছেন (৫:৬০)। ‘তারা যখন নিষিদ্ধ কার্য ঔদ্ধত্য সহকারে করতে লাগল তখন তাদেরকে বললাম, ‘ঘৃণিত বানর হও।’ ‘সাবত উদ্যাপন তো কেবল তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা এ সম্বন্ধে মতভেদ করত;-১৬:১২৪। [আলøাহ্র কিতাবের আলোচনা করার জন্য সাবতের দিনই জুমু‘আর দিন নয় কি?]
কুখারি-মুসলিমে দেখুন, ‘জেনে রাখ যে, জুমু’আ বারই তাদের বার; যা তাদের প্রতি নির্ধারিত হয়েছিল অথাৎ, জুমু’আ বার কিন্তু তারা সে সম্পর্কে মতভেদ করল আর আল্লাহ্ আমাদের তার সঠিক সন্ধান দিলেন। অতএব, এ ব্যাপারে লোক আমাদের পিছনে হলো, ইহুদিরা পরের দিন (শণিবার) কে এবং নাসারারা তার পরের দিন (রবিবার) কে গ্রহণ করল (মেশকাত-৩/১২৭৬। [আল্লাহ্ সঠিক দিনের সন্ধান দিলে তা কুরআনে নেই কেন?]
.
‘হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারÑ নির্দিষ্ট সংখ্যক (ইদ্দাদ) দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা (ইদ্দাদ) পূরণ করে নিতে হবে। .... তোমাদের মধ্যে যারা রমযান মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম সাধনা করে এবং কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা (ইদ্দাদ) পুরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এজন্য যে তোমরা সংখ্যা (ইদ্দাদ) পূর্ণ করবে... (২:১৮৩-১৮৫)। [উক্ত আয়াতদ্বয়ে তিন বার সংখ্যা পূরণ করতে বলেছেন। সিয়ামের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয় কি?]
..
[আরবিতে শাহ্রুন (৩৪:১২) অর্থ একমাস, শাহ্রাইন (৪:৯২, ৫৮:৪) অর্থ দুই মাস এবং আশ্হারুন (২:১৯৭) অর্থ মাসসমূহ। আল্লাহ্ ‘শাহ্রুন (এক মাস) বা শাহ্রু কামিলুন (পূর্ণ একটি মাস) সিয়াম সাধনা করতে বলেননি। ‘আয়্যামাম মা’দুদাত’ (২:১৮৪ ও ২:২০৩) দ্বারা ‘ইদ্দাত সর্বনিম্ম তিন। ‘লি তুকমিলুল ইদ্দাত’ (২:১৮৫) ও ‘তিলকা আসারাতুন কামিলাতুন’ (২:১৯৬) দ্বারা পূর্ণ সংখ্যা দশকে বুঝানো হয়েছে। ইদ্দাতের (সংখ্যার) ধারণা পাওয়া যায় নুহ নবীর বয়স পঞ্চাশ কম হাজার (২৯:১৪) বছর, দাউদ নবীর আগে হাজার হাজার (২:২৪৩) ও ইউনুস নবীর সময় লক্ষাধিক (৩৭:১৪৭) এবং মানুষের হাজার (২:৯৬) বছর বাঁচার আকাঙ্খা থেকে। দশটি অঙ্ক (প্রতীক) দ্বারা সকল সংখ্যা লেখা হয়। ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ প্রতীককে সার্থক অঙ্ক এবং ০ (শূন্য) প্রতীককে সংখ্যার অভাবজ্ঞাপক অঙ্ক বলা হয়। ১০ সর্বনি¤œ একটি পূর্ণ সংখ্যা। গণিত শাস্ত্রে ১০ এর কমে কোন প্রকৃত সংখ্যা নেই।
আল্লাহর কিতাবে রাতে কিছু কাজের উল্লেখ আছে। যেমন-] ‘সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রী-মিলন বৈধ করা হয়েছে। ... তোমরা মসজিদে ই’তিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। (২:১৮৭)। ‘শপথ দশ রজনীর, ... এবং শপথ রজনীর যখন তা গত হতে থাকে (৮৯:২, ৪)। [আল্লাহর শপথকৃত দশ রাত্রিই হতে পারে রমযানের দশ দিন সিয়ামের রাত্রে ‘মসজিদে ই’তিকাফ। কারণ যতদিন সিয়াম সাধনা, ততদিন রাত্রে ই‘তিকাফ (২:১৮৭)। রমযানের প্রথমে (দশ দিনে) ব্যর্থ হলে পরবর্তী বিশ দিনের (অন্য সময়ে;-২:১৮৪) মধ্যেই সিয়াম সাধনা করতে হবে। অন্য মাসে নয়। রমযান মাসে দশ দিন সিয়াম সাধনা করলে খাদ্য সিন্ডিকেট ও দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতি হবে কি?]
.
‘তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা হতে ফজরের শুভ্র রেখা তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম সাধনা পূর্ণ কর (২:১৮৭)।
কখন রাত হয়?!
কুরআনে দেখুন, ‘শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে যা আবির্ভূত হয় তার; তুমি কী জান রাত্রিতে যা আর্বিভূত হয় তা কী? তা উজ্জল নক্ষত্র! (৮৬:১-৩)। ‘রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন (৭৯:২৯)। শাফাকের (অস্তরাগের) পর হয় রাত (৮৪:১৬-১৭) এবং রাত্রির পর সুবেহ হয় (৭৪:৩৩-৩৪; ৮১:১৭-১৮) বা ফজর (২:১৮৭)। [সূর্যাস্তের পর ইষৎ অন্ধকার হলে ও আকাশে বহু সংখ্যক তারা দেখা দিলে রাত্র হয়। তারাকা অস্ত গেলে হয় ফজর। আল্লাহ কি তাঁর কিতাবে রাতের সংজ্ঞা দেন নি?]
.
লোকে তোমাকে আহিল্লা (নূতন চাঁদ) সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। (মুহাম্মাদ! তুমি) বল, ‘তা মানুষ এবং হজ্জের জন্য মাওয়াকিত (সময়-নির্দেশক);-২:১৮৯। [অমাবস্যার পর নতুন চাঁদকে হেলাল বলে। এরূপে প্রথম তিন দিনের চাঁদকে আহিল্লাহ্ বলে। ]
.
‘তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। ... তোমাদের মধ্যে যারা রমযান মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম সাধনা করে এবং কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পুরণ করবে;-২:১৮৪-১৮৫। ‘ভুল-বশত হত্যার করলে দুই মাস (৪:৯২), স্ত্রীর সাথে যিহার করলে দুই মাস (৫৮:৩-৪) এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শপথ ভঙ্গের জন্য তিন দিন (৫:৮৯) সিয়াম সাধনা করতে হয়। [আল্লাহ্ একটি সিয়ামের পরিবর্তে ৬০টির কথা বলেছেন কি?
.
কারা পৃথিবীর উত্তরাধীকারী
১. ‘আমি ‘উপদেশের পর যবুরে (কিতাবে) লিখে দিয়েছি যে, আমার সালেহুন (সৎকর্মপরায়ণ) বান্দাগণ পৃথিবীর অধিকারী হবে এবং নিশ্চয়ই এতে রয়েছে বাণী সেই কওমের জন্য যারা আবেদিন [ইবাদত করে] (২১:১০৫-১০৬)।
২. ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও আমেলূ সালেহ (সৎকর্ম) করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত দান করেবেন, যেমন খেলাফত দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীগণকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি পছন্দ করেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন (২৪:৫৫)।
সালেহুন (সৎকর্মপরায়ণ) ও আবেদিন (‘ইবাদত কারাী) কারা?
সালেহীন (সৎকর্মপরায়ণ)-
১. ‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে ও ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশী; আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন (৩:১৩৪)।
২. ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ্র নিকট অংগীকার করেছিল, আল্লাহ্ নিজ কৃপায় আমাদেরকে দান করলে আমরা নিশ্চয়ই সদ্কা দিব এবং সৎকর্মপায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হব (৯:৭৫)। [ইমামের (৯:১০৩-১০৪) নিকট সদকা দিলেই সৎকর্মপরায়ণ হয়।]
৩. ‘আমি তোমাদের যে রিয্ক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে, ‘আমার রব! আমাকে আরও কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা দিতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম (৬৩:১০)।
প্রত্যেকের আয়ের ৫ ভাগের ১ ভাগ অর্থ ইমামের নিকট যাকাত হিসাবে দেওয়ার পর অতিরিক্ত সদকা এবং সদকা স্বেচ্ছাধীন (৫৮:১২-১৩)। অবৈধ সকল সম্পদ (৯:১০২-১০৩)। সদকাদাতা অর্থাৎ সালেহীনদের প্রার্থনা আল্লাহ কবূল করেন (৫:৮৩-৮৫; ৩:১৪৭-১৪৮; ২৫:৭০, ৭৪-৭৬; ৪৬:১৩-১৬)। যারা আমেলূ সালেহ (সৎকর্ম) করে তারাই জান্নাতে যাবে (২:২৫, ৮২; ৪:৫৭, ১২২; ১৪:২৩; ১৮:৩০-৩১; ২২:২৩; ২৯:৫৮; ৪৭:১২; ৬৪:৯; ৯৮:৭-৮)।
আবেদিন (‘ইবাদত কারাী)-
‘তাদেরকে করেছিলাম ইমাম (নেতা); ১. তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ-প্রদর্শন করত; ২. তাদেরকে ওহী করেছিলাম সৎকর্ম করতে (সদকা দিতে), ৩. সালাত কায়েম করতে, এবং ৪. যাকাত প্রদান করতে; তারা আমারই আবেদিন [ইবাদত করত](২১:৭৩। আল্লাহ ইমামসহ আহ্ববান করবেন (১৭:৭১)। [উক্ত গুণসম্পন্ন ইমাম কোথায়?]
.
৬১. কুরআনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’তে অহংকার, বুখারি-মুসলিমে ‘জান্নাত!
কুরআনে দেখুন, ‘তাদেরকে - ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা হলে তারা অহংকার করত (৩৭:৩৫)। ‘তওবা তাদের জন্য নয় যারা আজীবন মন্দ কার্য করে, অবশেষে তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, ‘আমি এখন তওবা করতেছি (৪:১৮)। [আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য নয় কি?]
বুখারি-মুসলিমে দেখুন, ‘আল্লাহর কোন বান্দা বলবে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু; এবং এ অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নাতে যাবে (মেশকাত-১/২৪, ৩৩)। [মরার সময় কালেমা পড়লে জান্নাতে যাওয়া যাবে তা
.
ইসলামি ফাউন্ডেশন
কুরআন থেকে ছিজদার
আয়াতের মূল ভাব প্রকাশ
=================
উলিল আল-বাবদের কাছে
জানার জন্য আমার জিজ্ঞাসা,
ইহা কি মাটিতে কপাল ঠেকানো?
=================
প্রথমে আদমকে ছিজদা প্রসঙ্গে
.
[২:৩৪] আদমকে ছিজদা
করার নির্দেশ।
.
[২:৩৪] ইবলিছ ছিজদা
করলো না।
.
[৭:১১] আদমকে ছিজদা
করার নির্দেশ।
.
[৭:১১] ফেরেস্তাগন ছিজদা
করলো।
.
[৭:১১] ইবলিছ ছিজদা
করলো না।
.
[৭:১২] আল্লাহ বললেন
কেন ছিজদা করলে না।
.
[১৫:২৯] আদমকে ছিজদা
করার নির্দেশ।
.
[১৫:৩০] ফেরেস্তাগন ছিজদা
করলো।
.
[১৫:৩১] ইবলিছ ছিজদা
করলো না।
.
[১৫:৩২] আল্লাহ বললে
কেন ছিজদা করলে না।
.
[১৫:৩৩] ইবলিছ বলিল
মাটির মানুষকে ছিজদা
করব না।
.
[১৭:৬১] আদমকে ছিজদা
করার নির্দেশ।
.
[১৭:৬১] ফেরেস্তাগন ছিজদা
করলো।
.
[১৭:৬১] ইবলিছ ছিজদা
করলো না।
.
[১৮:৫০] আদমকে ছিজদা
করার নির্দেশ।
.
[১৮:৫০] ফেরেস্তাগন ছিজদা
করলো, ইবলিছ করল না।
.
[২০:১১৬] আদমের প্রতি
ছিজদা করার নির্দেশ।
.
[২০:১১৬] ফেরেস্তাগন ছিজদা
করলো ইবলিছি করলো না।
.
[৩৮:৭২] যখন উহাকে সুষম
করিয়া আমার রুহ সঞ্চার
করিব তখন তোমরা উহার
প্রতি ছিজদাবনত হবে।
.
[৩৮:৭৩] তখন ফেরেস্তগন
ছিজদাবনত হল।
.
[৩৮:৭৫] (আল্লাহ ইবলিছকে
বললেন) নিজ হাতে যাকে
সৃষ্টি করিলাম কেন তাহাকে
ছিজদা করিলে না?
আলোচনা
ছিজদা শব্দের অর্থ যদি
হয় মাটিতে কপাল
ঠেকানো, তাহলে উপরের
প্রতিটি আয়াত দিয়েই
প্রমান হয় যে, আল্লাহ
আদমকে সৃষ্টি করেছেন।
কাজেই আল্লাহর সামনে
আল্লাহকে ছিজদা না দিয়ে
আল্লাহর সৃষ্টি জীবকে কি
ভাবে ছিজদা করা যায়?
কারন, আল্লাহ বলেন-
[৪১:৩৭]...তোমরা চঁন্দ্র
সূর্যকে ছিজদা করিওনা,
ছিজদা কর আমাকে, যিনি
এই গুলি সৃষ্টি করিয়াছে।
(অর্থাৎ চঁন্দ্র সূর্যকে উপাস্য
হিসাবে মান্য করিওনা)।
(যেমন ছাবা বাসি সূর্যকে
ছিজদা করিত অর্থাৎ
সূর্যকে উপাস্য হিসাবে
মান্য করতো-২৭:২৪)।
.
===============
.
[৩:৪৩] হে মরিয়ম, রবের
অনুগত হও ও ছিজদা কর,
এবং যাহারা রুকু করে
তাহাদের সঙ্গে রুকু কর।
.
[৫৩:৬২] (মুহাম্মাদের এর
অনুসারীদেরকে আল্লাহ
বললেন) আল্লাহকে ছিজদা
কর, এবং তাঁহার ইবাদাত কর।
.
[২২:৭৭] হে মু'মিনগন,
তোমরা রুকু কর, ছিজদা
কর, রবের এবাদাত কর,
সৎকর্ম কর, যাহাতে সফল
হতে পার।
.
[৯:১১২] মু'মিনরা তওবাকারী, ইবাদাতকারী, রুকুকারী ও
ছিজদাকারী...।
(রুকুকারী অর্থ ছলাত
ওযাকাত আদায়কারী।
অহুম রকিউন অর্থ
তাহারা রুকুকারী-৫:৫৫)।
.
==============
.
ধারাবাহিক ৩ টি আয়াতের
অর্থ।
{৮৪:২০} সুতরং উহাদের
কি হইল যে, উহারা ঈমান
আনে না।
[৮৪:২১] উহাদের নিকট
কুরআন পাঠ করা হইলে
উহারা ছিজদা করে না।
{৮৪:২২} কাফেরগন উহাকে
অস্বীকার করে।
(প্রশ্নঃ- কি মেনে না নিয়ে
অস্বীকার করে? উঃ কুরআন
পাঠ করা হলে উহারা
কুরআন মানে না)
.
[১৯:৫৮] আল্লাহর মনোনীত
বান্দাদের নিকট কুরআন
পাঠ করা হলে তাহারা
কেঁদে কেঁদে ছিজদায়
লুটাইয়া পড়িত।
(কিন্তু কাফেরগন ছিজদা
করিতনা অঅর্থাৎ মানতো
না)।
.
[১৭:১০৭] কুরআন পাঠ
করলে তাহারা ছিজদায়
লুটাইয়া পড়িত।
(এই আয়াতে লুটাইয়া
পড়া আর কপাল ঠেকানো
এক নয়)।
.
[৩২:১৫] আল্লাহর নিদর্শন
বিশ্বাস করে অহংকার না করিয়া
ছিজদায় লুটাইয়া পড়িত।
(অর্থাৎ নিজেদের ভুল
বুজতে পেরে অহংকার
না করে মাটিতে গড়াগড়ি
খেতো)।
.
===============
.
[২:১২৫] (ইবরাহিম ও
ইছমাঈলের প্রতি নির্দেশ)
তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী,
রুকু ও ছিজদাকারীদের জন্য
আমার গৃহ পবিত্র রাখিবে।
.
[২২:২৬] (ইবরাহিম ও
ইছমাঈলের প্রতি নির্দেশ)
তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী,
রুকু ও ছিজদাকারীদের জন্য
আমার গৃহ পবিত্র রাখিবে।
.
আলচনা
({১} যারা ছলাত কায়েম
করে ও যাকাত দেয় তাহারা
রুকুকারী। =অহুম রকিউন=
-৫:৫৫। সেই সমস্ত
রুকুকারীদের জন্য অর্থাৎ
সেই সমস্ত ছলাত ও যাকাত
আদায় কারীদের জন্য গৃহ
পবিত্র রাখিবে। {২} যারা
আল্লাহর হুকুম মান্য করে
তাহারা ছিজদাকারী অর্থাৎ মান্যকারী-৮৪:২১। যাহারা
আল্লাহর কিতাব পাট করে
তাহারাই ছিজদাকারী।
অহুম ইয়াছ জুদুন অর্থ
তাহারা ছিজদাকারী অর্থ
তাহারা মান্যকারী-৩:১১৩)।
.
===============
{৭৩:১-৭}হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে
দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ
বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা
তদপেক্ষা কিছু কম। অথবা
তদপেক্ষা বেশী এবং
কোরআন আবৃত্তি করুন
সুবিন্যস্ত ভাবে বা স্পষ্টভাবে।
নিশ্চয় এবাদতের জন্যে
রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে
সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের
অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে
রয়েছে আপনার দীর্ঘ
কর্মব্যস্ততা।
.
[৭৬:২৬] রাত্রির কিয়দংশে
তাঁহার প্রতি ছিজদাবনত হও।
(অর্থাৎ কুরআন পাঠ করো)।
ও মহিমা...
.
[৫০:৪০] মহিমা ঘোষনা কর
রাত্রির এক অংশে ও ছিজদার
পরেও।
(অর্থাৎ কুরআন পাঠ এর
পরেও মহিমা) (ইঃফাঃকুঃ
সালাতের পরে বলা হয়েছে)
.
[৩:১১৩] কিতাবীদের এক
দল রাত্রে আয়াত পাঠকরে
ছিজদা করে।
(কিতাবীদের একদল
আল্লাহর হুকুম মেনে
আল্লাহর আয়াত পাঠ করে)
.
[৩৯:৯] রাত্রির বিভিন্ন যামে
ছিজদাবনত হইয়া দাড়াইয়া
আনুগত্য করে ভয় করিয়া।
.
[২৫:৬৪] তাহারা রাত
অতিবাহিত করে ছিজদাবনত
হয়ে দন্ডায়মান থাকিয়া।
তাহারা আল্লাহর হুকুম
মেনে দাড়িয়ে কুরআন
পাঠ করে অন্যদেরকে
শুনানো বা বুঝানোর জন্য
.
==============
.
[৪:১০২] তাহাদের ছিজদা
করা হলে অন্য দল তোমার
সাথে যেন ছালাতে দাড়ায়।
(ছলাতে কুরআন থেকে
প্রার্থনামুলক আয়াত পাঠ
করা শেষ হলে, ইহাই
আল্লাহর হুকুম মান্য করা
শেষ হলে)
.
[৯৬:১৯] তুমি উহার অনুস্মরণ
করিও না (মিথ্যাবাদীর) এবং
ছিজদা কর আমাকে।
(অর্থাৎ মিথ্যাবাদীদের
হুকুম না মেনে আল্লাহর
হুম মান্য করো)
.
[১৫:৯৮] তুমি ছিজদাকারীদের
অন্তর্ভুক্ত হও।
(যারা আল্লাহর হুকুম পালন
করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হও)।
.
[২৬:২১৯] আল্লাহ দেখেন
ছিজদা কারীদের সাথে
তোমার উঠা-বসা।
(যারা আল্লাহর হুকুম পালন
করে তাদেরকে নিয়ে যখন
বসো ও বিদায় দেওয়ার জন্য
যখন উঠো)
.
[৪৮:২৯] আল্লাহর অনুগ্রহ ও
সন্তুষ্টি কামনায় তুমি
তাহাদেরকে রুকু ও ছিজদা
অবস্থায় দেখিবে।
(ছলাত যাকাত ও
তেলাওয়াত অবস্থায়
দেখিবে, ইহাই আল্লাহকে
মান্য করা)।
.
[৪৮:২৯] তাহাদের
মুখমন্ডলে ছিজদার
প্রভাব থাকিবে।
(বিনয়ের প্রভাব দেখিবে।
অর্থাৎ চেহারায় অহংকারী
ভাব থাকিবে না)
.
[৬৮:৪২] সেইদিন পায়ের
গোছা উম্মোচিত করা হবে
ছিজদা করার জন্য। কিন্তু
সক্ষম হইবে না।
(পা বাধাহীন বা উম্মুক্ত
থাকবে তবুও আল্লাহকে
মান্য করতে সক্ষম হবে না)।
(ছাবার রানীও পায়ের
গোছা উম্মোচিত করেছিল
-২৭:৪৪)
.
[৬৮:৪৩] ★উহাদের দৃষ্টি
অবনত,,, হীনতা উহাদিগকে
আচ্ছন্ন করিবে, নিরাপদ
থাকা অবস্থায় ছিজদা
করিতে আহবান করা হয়েছিল।
(পৃথিবীতে থাকাকালিন
আল্লাহকে মান্য করতে
বলা হয়েছিল)।
.
==============
.
[৭:২০৬] অহংকার না করে
ছিজদা করে তারা যারা,
আল্লাহর সান্নিধ্যে রয়েছে।
(ফেরেস্তাগন আল্লাহর
হুকুমের প্রতি অনড়)
.
[২৫:৬০] যখন তাহাদেরকে
বলা হয় রহমানের প্রতি
ছিজদা কর।
(রহমানের প্রতি নতি
স্বীকার করো)
.
[২৫:৬০] তখন তাহারা
বলে, তুমি কাহাকেও
ছিজদা করিতে বলিলেই
কি আমরা ছিজদা করিব?
(তুমি বললেই কি আমরা
মান্য করিব বা নতি স্বীকার
করিবো?)
.
===============
.
[৭:১২০] ফিরাউনের
জাদুকরেরা ছিজদাবনত হল।
.
[২০:৭০] ফেরাউনের
জাদুকরেরা ছিজদাবনত হল।
.
[২৬:৪৬] ফেরাউনের
জাদুকরেরা ছিজদাবনত হল।
(অর্থাৎ মুছার কথার
প্রতি নতিস্বীকার করে
বা মুছার কথাকে মেনে
নিয়ে আল্লাহর প্রতি ইমান
আনলো। তাই ফেরাউন
বললো আমি অনুমতি
দেওয়ার পূর্বেই তাকে
মেনে নিলে? ২৬:৪৬-৪৯।
এবং ফেরাউনের স্থলে মুছাকে
প্রধান্য দিল।-২০:৭০-৭২।
৭:১২৩)
.
==============
.
[২৭:২৪] (ছাবার রানী)
সেই নারী ও তাহার
সম্প্রদায় সূর্যকে ছিজদা
করিত, শয়তানই ইহা
করার নির্দেশ দিত।
.
[২৭:২৫] এই জন্য যে, উহারা
যেন আল্লাহকে ছিজদা না করে।
(অর্থাৎ তাহারা যেনো
আল্লাহকে না মানে)
.
[৪১:৩৭] (আল্লাহ বলেন)
তোমরা সূর্যকে ছিজদা
করিওনা চঁন্দ্রকেও নহে,
.
[৪১:৩৭] ছিজদা কর
আল্লাহকে, যিনি এইগুলো
সৃষ্টি করেছেন।
.
===============
.
[১২:৪] ইউছুফকে ছিজদা
করলো চঁন্দ্র, সূর্য ও ১১ টি নক্ষত্র।
[১২:১০০] ইউছুফকে ছিজদা
করিল ইউছুফের মা-বাবা
সহ মোট ১৩ জনে।
প্রশ্নঃ চঁন্দ্র সূর্য কিভাবে
মানুষের পায়ের সামনে
এসে মাটিতে কপাল
ঠেকাবে? চঁন্দ্র সূর্যের কি
কপাল আছে? কুরআন
বলছে যে, চঁন্দ্র সূর্য ছিজদা
করে আল্লাহকে। প্রশ্নঃ-
আল্লাহকে বাদে আল্লাহর
সৃষ্টি জীব মানুষকে কেন
চঁন্দ্র-সূর্য ছিজদা করবে?
তাহলে কি আল্লাহর চেয়ে
মানুষ বড় হয়ে গেল?
নাউযুবিল্লাহ।
অর্থাৎ ইউছুফেরর বাবা-
মা, ইউছুফের একজন
আপন ভাই, এবং ইউছুফের
১০ জন সৎভাই ছিজদা
করিল প্রশ্নঃ- মা-বাবা
কিভাবে ছেলের পায়ের
সামনে ছেলের জন্য
মাটিতে কপাল ঠেকাবে?
ইহা কি কোন যুক্তিতে টিকে?
নাকি ইউছুপের ভাইয়েরা
ইউছুপকে কুয়ায় ফেলে
অপরাধ করাতে এখন
ইউছুফের প্রতি নতি
শিকার করে ইউছুফের
বাদশাহিকে মেনে নিয়ে
ইউছুফকে খুশি করে
ইউছুফকে প্রধান্য দিলো?
কোনটি? তাহলে ছিজদা
শব্দের অর্থ কি দাড়ায়?
কাউকে মেনে নিয়ে প্রধান্য
দেওয়া? নাকি মাটিতে
কপাল ঠেকানো?
.
==============
.
[২:৫৮] ছিজদা ★ নতশিরে
দ্বার দিয়ে প্রবেশ কর।
.
[৪:১৫৪] ছিজদা ★ নতশিরে
দ্বার দিয়ে প্রবেশ কর
.
[৭:১৬১] ছিজদা ★ নতশিরে
দ্বার দিয়ে প্রবেশ কর
★উপরের তিনটি ছুরার
তিনটি আয়াতে ছিজদা
শব্দ রয়েছে, কিন্তু চালাকি
করে এখানে ছিজদা করার
কথা না লিখে আসল বা
সঠিক অর্থ দিয়েছে। কারন,
ছিজদা করতে করতে দরজা
দিয়ে ঢুকা যায় না। তাই
আসল অর্থই লিখতে বাধ্য
হয়েছে, নত শিরে দ্বার দিয়ে
প্রবেশ কর। অর্থাৎ নতি
স্বীকার করা। তাহলে ছিজদা
শব্দের অর্থ কি দাড়ালো?
মাটিতে কপাল ঠেকানো?
নাকি অহংকার ঝেরে ফেলে
আল্লাহর আদেশের প্রতি
নত হওয়া অর্থাৎ আল্লাহর
হুকুম মান্য করা। তাই যদি
হয় তাহলে মানুষ কোন
আয়াতের ভিত্তিতে মাটিতে
বার বার কপাল ঠেকায়?
.
===============
.
[১৩:১৫] আল্লাহকে ছিজদা
করে আকাশ ও পৃথিবীর
সবকিছুতে। (আকাশ ও
পৃথিবীর সব কিছুতে আল্লাহর
হুকুম মতো আল্লাহর হুকুমের
প্রতি অনড় থাকে)।
.
[১৬:৪৯] আকাশ ও পৃথিবীর
সবকিছু ছিজদা করে
আল্লাহকে। (আকাশ ও
পৃথিবীর সবকিছুতে
আল্লাহর হুকুম মান্য করে)।
.
[১৬:৪৮] গাছের ছায়াও
ছিজদা করে আল্লাহকে।
★(গাছের ছায়াও আল্লাহর
হুকুম মান্য করে। বিধায়
ছায়া দেখা যায়। আল্লাহর
হুকুম না থাকলে কোন
ছায়াও দেখা যেতনা)
.
[৫৫:৬] তৃণলতা ও বৃক্ষাদি
তাঁহারই ছিজদায় রত রহিয়াছে।
★(তৃণলতা ও বৃক্ষাদি
তাঁহারই আদেশের প্রতি
অনড় রহিয়াছে)
.
[২২:১৮] আল্লাহকে ছিজদা
করে যাহা কিছু আছে
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে,
যথা- চঁন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্রমন্ডলী,
পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা,
জীবজন্তু এবং মানুষের
মধ্যে অনেকে।
.
★(এখানে বেশি না বলে
দুটি বিষয় বলছি। (১)
আল্লাহর হুকুমে পাহাড়
স্থীর রয়েছে, যে দিন পুনরায়
আল্লাহ হুকুম করবেন সেদিন
পাহাড়গুলো তুলার মত
উরতে থাকবে। (২) মানুষের
মধ্যে অনেকে। অর্থাৎ সব
মানুষ আল্লাহর আদেশ-
নিষেদ বিদি বিধান হুকুম-
আহকাম মেনে চলে না।
কারন, আল্লাহ কুরআনের
বহু স্থানে বলেছেন যে,
অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট।
তাই অল্প মানুষ আল্লাহর
ছিজদা করে অর্থাৎ আল্লাহর
বিধি বিধান মান্য করে চলে)
.
(ছিজদা যদি হয় মাটিতে
কপাল ঠেকানো তাহলে
প্রশ্ন থেকে যায় যে, চঁন্দ্র-
সূর্য কখন আসে মাটিতে?
উহারাতো অবিরাম
ঘূর্ণায়নশীল। গাছকে কেউ
দেখেনা মাটিতে কপাল
ঠেকাতে এবং পাহাড় তো
নড়াচড়াও করেনা। তাহলে
এই গুলি কি ভাবে মাটিতে
কপাল ঠেকায়? বড়ভাই, মা-
বাবা কেন তার সন্তানের
পায়ে কপাল ঠেকাবে?
তাহলে আল্লাহ কি কোন
অসামঞ্জস্য কথা বলেছেন?
নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ ঠিকই
বলেছেন, মানুষ ছিজদা
শব্দের অর্থ প্রকাশ না
করাতে অর্থ ভিন্নদিকে
প্রবাহিত হয়েছে।
.
কিন্তু শয়তানের চ্যলেঞ্জ
শয়তান কাজে পরিনত
করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে।
আর মানুষ শয়তানকে
অনুস্মরণ করে আরবীতে
ছিজদা শব্দের অর্থ বাংলায়
প্রকাশ না করে ছিজদা
ছিজদাই রেখে দিল, যার
কারনে ছিজদা শব্দের অর্থ
কি হবে তাহা মানুষের
অজানাই থেকেগেলো।
এরজন্য কিয়ামতের দিন
তাহাদেরকে জবাবদিহি
করতে হবে।
---------------
কুরআনে মোট ৬৪ স্থানে
আমি ছিজদা শব্দটী পেয়েছি।
তবে আরও থাকতে পারে।
♦♦♦♦♦♦♦সমাপ্ত
.
=============
.
ছিজদাহ শব্দের অর্থ
আমি যাহা বুজিছি।
.
(১) কারো কাছে
নতিসিকার করা।
.
(২) বস্যতা সিকার করা।
.
(৩) বসিভুত হওয়া।
.
(৪) মস্তক অবনত করা।
.
(৫) মাথা নোয়ানো।
.
(৬) মান্য করা।
.
(৭) হুকুম মেনে নেওয়া।
.
(৮) আনুগত্য করা।
.
(৯) এবাদাত করা।
.
(১০) ছলাত কায়েম
করা-৪:১০২।
(১১) কাহারও আদেশের
প্রতি অনড় থাকা।
.
(১২) কারো কথা মেনে
নেওয়া।
.
(১৩) কারো শ্রেস্টত্বের উপর
নিজেকে সোপর্দ করা।
.
(১৪) কারো শ্রেস্টত্বকে
মেনে নেওয়া।
.
(১৫) আল্লাহর কথা/
কুরআনের বক্তব্যগুল
মেনে নেওয়ার অর্থই
হল ছিজদা।
.
============
.
[৩৮:৭২-৭৩] ছিজদা
অর্থঃ নত হওয়া।
মা'আরেফুল কুরআন।
.
[৪:১৫৪] ছিজদা অর্থঃ
অবনত মস্তক।
মা'আরেফুল কুরআন।
.
==============
.
[৪২:৩৮] ইছতাযাবু।
[২:৩৪।] ফাছাযাদু-
অর্থ একই-মান্যকরা।
.
[৮৪:২০-২১] তাহাদের
কি হল যে তাহারা ঈমান
আনেনা এবং যখন
তাহাদের নিকট কুরআন
পাঠ করা হয় তখন তাহারা
ছিজদা করেনা। (সঠিক অর্থ
হবে- যখন তাহাদের নিকট
কুরআন পাঠ করা হয় তখন
তাহারা তাহা মেনে নেয়না?)।
.
[ ১৫:১৪] বস্যতা সিকার।
এটা ছিজদার বিপরিত।
[ ১৫;১৪-১৫] অর্থাৎ
অহংকার না করে...।
.
[৩৬:৮] ছিজদার বিপরিত
কথা। (অহংকারে) মস্তক
উর্ধমুখি হয়েরয়েছে।
===============
[৬৭:২২] যে ব্যক্তি উপুড়
হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে,
সে-ই কি সৎ পথে চলে, না
সে ব্যক্তি যে সোজা হয়ে
সরলপথে চলে?
.
[১৭:৯৭] ...আমি তাদেরকে
একত্রিত করব মুখে ভরদিয়ে
চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়,
বোবা অবস্থায়...।
.
[৩৫:৩৪] যাদেরকে মুখ
থুব্রে পড়ে থাকা অবস্থায়
জাহান্নামের দিকে নিয়ে
যাওয়া হবে।
.
[২৭:৯০] মন্ধ কাজনিয়ে
আসা ব্যক্তিকে কিয়ামতে
অধঃমূখে জাহান্নামে
নিক্ষেপ করা হবে।
.
==============
.
[৪১:৬] তাঁর দিকেই সোজা
হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে
ক্ষমা চাও।
.
[৪০:১৩] চিন্তা ভাবনা
তারাই করে যারা আল্লাহর
দিকে সোজা থাকে।
.
[৭:২৯]...তোমরা প্রত্যেক
সেজদার সময় স্বীয়
মুখমন্ডল সোজা রাখ
এবং তাঁকে খাঁটি
আনুগত্যশীল হয়ে ডাকো
...। (মা'আরেফুল কুরআন)
.
[৭:২৯] তোমরা
প্রত্যেকে مَسْجِدٍ মছজিদে
দাড়িয়ে মুখ সোজা রেখে
আল্লাহকে খাটিভাবে ডাকো।
(এটা ভিন্ন অর্থ। তবে আরবীতে
স্পষ্টভাবে দেখা যায়
মাছজিদিন শব্দটি আছে)।
*
J:-এইখিনি পঢ়ক ৰিচাৰ্ছ কৰক
11.06.2017
Comments
Post a Comment