কেন আমরা আল্লাহর দীন পাচ্ছি না?
Masud Ranabd
কেন আমরা আল্লাহর দীন পাচ্ছি না?
রাসূল সালামুন আলা মুহাম্মদ এর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শাসন ব্যবস্থা থেকে জাতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আলী (রাঃ) এর মৃত্যুর পর পরই। তারপর থেকে শরু করে আজ অবধি আমরা শুধু ইসলামী শাসন চেয়েই গেলাম আর বিভিন্ন ভাবে চেষ্টাও করে গেলাম কিন্তু সেই কাঙ্খিত শাসন ব্যবস্থা পেলাম না। এর কারণ কি?
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর দেখানো পথে না হেঁটে নিজেদের মতোকরে চেষ্টা করেছি, তাই ২৪:৫৫ তে ঈমানদারদের সাথে আল্লাহর কৃত ওয়াদা ব্যার্থ হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই ইসলামী শাসন ব্যবস্থা আবারও কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
আল্লাহ্ যখন রাসূল পাঠাতেন তখন এই মিশন ছিল রাসূলদের উপর। কিন্তু যখন রাসূল আর আসবেনা এবং জাতি যখন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে পরিত্যাগ করে তাগুতের আনুগত্য গ্রহণ করে তখন তাদেরকে আবার কোন শর্তে আল্লাহ্ সেই খেলাফত(রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা),দীন কায়েম ও নিরাপত্তা দিবেন তা সূরা নূর এর ৫৪ ও ৫৫ তে বলেছেন।
আয়াত দুইটি সবাই গভীর ভাবে পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে জ্ঞান চান। আসুন আমরা উক্ত আয়াত দ্বয়ের উপর আমল করি। কারণ ২৪:৫৫ আয়াতের শেষে বলা হয়েছে পূর্বে বর্ণিত বিষয় যে অস্বীকার করবে সে ফাসিক।
রাসূল সালামুন আলা মুহাম্মদ মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান কালে মানুষকে তাগুত পরিত্যাগ করে আল্লাহ অভিমুখী হওয়ার আহব্বান জানিয়েছেন। কুরআনে বর্ণিত সত্য প্রচার করেছেন। হক দ্বারা বাতিলের মাথায় আঘাত করেছেন। পত্তলিকতা ছেড়ে মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দিকে আহব্বান জানিয়েছেন। নিজেদের তৈরী গোত্র ভিত্তিক আইন, প্রথা, কালচার, ও রীতিনীতি পরিত্যাগ করে সমাজে এক আল্লাহর আইন-বিধানের আনুগত্য বা ইবাদাত প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন দ্বারা তার জাতির বিরুদ্ধে প্রবল জিহাদ (25:52) চালিয়ে গেছেন। আর আমরা যদি তাকে অনুসরণ করতে চাই তাহলে আমাদেরকেও তাই করতে হবে যা তিনি করেছেন এবং যেভাবে করেছেন। যে কাজ তিনি দীন প্রতিষ্ঠার পর করেছেন আমি আপনি যদি সে কাজ দিন প্রতিষ্ঠার আগে করি তাহলে তাকে অনুসরণ করা হবে কি? নিশ্চয়ই হবে না।
আসুন আমরা কুরআন থেকে খুঁজে বের করি দীন কায়েমের পূর্বে রাসূল সালামুন আলা মুহাম্মদ কি কি করেছেন, আপনার আমার সিলেবাসও তাই হওয়া উচিত। কারণ মহান রব তার সুন্নাত অনুযায়ী যখন যা প্রয়োজন তখন তাই আদেশ করেছেন। কাজেই আমাদেরকেও সেই সুন্নাত আঁকড়ে ধরতে হবে। আর তা হলো ২৪:৫৫।এই সুন্নাতের বাহিরে গেলে আল্লাহ কখনোই তাঁর ওয়াদা পূরণ করবেন না। দীন আল্লাহর তাই আমাদের উচিত নয় তাঁকে দীন শেখানো এবং তাঁর
চেয়ে বেশি বোঝা।
হে আমাদের রব! আমাদেরকে সত্য উপলব্ধি করার, ও সত্য মেনে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আর আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান দান দ্বারা সাহায্য করুন।
link:-
https://m.facebook.comlink:
.
১. কুরআনে দীনের সকল সমস্যার সমাধান আছে
সুপ্রিয় পাঠক! এ গ্রন্থ পাঠ করার পর বুঝতে পারবেন, রাসূল কুরআন প্রচারের জন্য এসেছিলেন। কুরআন ব্যাখ্যা প্রসংগে আল্লাহ্ বলেন, ‘এ-ই কুরআন আল্লাহ্ ব্যতীত অপর কারো রচনা নয়। পক্ষান্তরে এর পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে এ তার সমর্থন এবং এ বিধানসূহের বিশদ ব্যাখ্যা...;-১০:৩৭। ‘আমি এ কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছি, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে;-৩৯:২৭; ১৮:৫৪; ১৭:৮৯। ‘কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেই নি;-৬:৩৮। সুস্পষ্ট কিতাবে সব কিছুই আছে;-১১:৬। ‘কুরআন আমি সহজ করে দিয়েছি শিক্ষা গ্রহণের জন্য; অতএব শিক্ষা গ্রহণকারী কেউ আছে কি:-৫৪:১৭, ২২, ৩২, ৪০।’ আর দীন ইসলামের প্রচলিত ধারক, বাহক, প্রচারক ও অনুসরণকারীগণ কুরআন বোঝেনই না, রাসূলের নামে কুরআন সমর্থিত প্রচলিত হাদিসও তারা মানেন না।
Comments
Post a Comment